উদয়পুরে নতুন সূর্যোদয়ের সংকল্প

পার্থ মুখোপাধ্যায় : 

রাজস্থানের উদয়পুরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের তিন দিন ব্যাপি নব সঙ্কল্প শিবিরের পরিসমাপ্তি ঘটলো। শিবিরের সমাপ্তি হলো দলীয় সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সমাপ্তি ভাষনের মাধ্যমে। এবারের শিবির আয়োজনের মাপকাঠিতে সর্বাঙ্গ সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আয়োজিত হয়েছে। সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীও এই উপলক্ষে রাজস্থানের কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা সহ আয়োজনের কার্যে সংযুক্ত সমস্ত পদাধিকারী ও কর্মীদের বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সনিয়াজি এবারের শিবিরকে খুবই প্রয়োজনীয় এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেন। সনিয়াজির ভাষায় এবারের শিবিরে অনেক বেশি সংখ্যায় মানুষ তাদের ব্যক্তব্য রাখার এবং বিভিন্ন পরিসরের প্রস্তাবনা পেশের সুযোগ পেয়েছেন, যা গঠনমূলক যোগদানের প্রেক্ষিতে এক উল্লেখযোগ্য বিষয়। বিভিন্ন বিষয়ে ছয়টি বিভিন্ন কমিটি তাদের ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকের বিশদ আলোচনার সংখিপ্ত সারবস্ত সমেত একটি প্রতিবেদন দলীয় সভানেত্রীর হাতে তুলে দেন। সনিয়াজির মতে এই প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় অবস্থান, নীতি এবং কার্যাবলী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া যাবে, যা কংগ্রেসের কেন্দ্রে এবং বিভিন্ন রাজ্যে পরবর্তীতে নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো তৈরির কাজে সাহায্য করবে। সনিয়াজি এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ করে সাংগঠনিক কমিটির প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করেন কেননা তার মতে এই প্রস্তাবগুলিই তাৎক্ষনিক প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি রাখে। এই প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলির বেশ কয়েকটি নব সঙ্কল্প ঘোষনাপত্রেও সামিল করা হয়েছে। সভানেত্রী সাংগঠনিক কমিটির সুপারিশকৃত প্রস্তাবগুলি দ্রুততার সঙ্গে রুপায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সনিয়াজি আরও আশা প্রকাশ করেন যে এবারের শিবির কংগ্রেস কর্মী ও নেতৃবৃন্দের নুতন রুপে উজ্জীবিত ইচ্ছাশক্তিকে ভিত্তি করে সামগ্রিক দলগত উদ্দেশ্য সাধনের প্রক্রিয়াকে সফল করে তুলবে।
এর পর সনিয়াজি নব সঙ্কল্প শিবিরের চারটি বিশেষ ঘোষনার উল্লেখ করেন। সেই ঘোষনাগুলি নিম্নরুপঃ
১) আগামী গান্ধী জয়ন্তীর দিন কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী “ভারত জোড়ো” পদযাত্রায় সব নেতৃবৃন্দই সামিল হবেন। এই পদযাত্রার উদ্দেশ্য হলো সামাজিক সমন্বয় বজায় রাখা যা গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন। এছাড়াও আমাদের সংবিধানের মৌলিক মূল্যবোধগুলিকে সুরক্ষিত রাখা, যা আজ আক্রান্ত এবং কোটি কোটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলিকেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা, যা আজ প্রবল ভাবে উপেক্ষিত।
২) আগামী ১৫ই জুন জেলাস্তরের জন জাগরন অভিযানের দ্বীতিয় পর্যায় শুরু হবে, যা অর্থনৈতিক সমস্যাগুলি নিয়ে মুখর হবে, বিশেষ করে চরম বেকারত্ব ও অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধির বিষয়গুলি যা জীবন ও জীবিকাকে ধ্বংশ করছে।
৩) একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে, যারা উদয়পুরে বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলির প্রস্তাবিত আভ্যন্তরিন সংস্কারগুলি নিয়ে কাজ করবে ২০২৪ এর লোকসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনের কাঠামো, দলীয় পদাধিকারী নিয়োগের নীতি নির্ধারন, পারস্পরিক যোগাযোগ, প্রচার, বর্হিসংযোগ, অর্থ সংস্থান এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তঃ গ্রহনের ক্ষেত্রে। এই টাস্ক ফোর্সের কাঠামো নিয়ে আগামী দুই তিন দিনের মধ্যেই ঘোষনা করা হবে।
৪) সিদ্ধান্তঃ নেওয়া হয়েছে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের থেকেই একটি পরামর্শদাতা গোষ্ঠী গঠন করা হবে যারা সনিয়াজির সভাপতিত্বে নিয়মিত ভাবে মিলিত হবে দলের সামনে রাজনৈতিক বিষয় ও চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য। এছাড়াও ওয়ার্কিং কমিটির  নিয়মিত মিটিংও অনুষ্ঠিত হবে। এই পরামর্শদাতা গোষ্ঠীর সিদ্ধান্তঃ গ্রহনের ক্ষমতানথাকবে না কিন্তু  তাদের সংযুক্ত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পরামর্শ সভানেত্রীকে সিদ্ধান্তঃ গ্রহনের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।
বিগত তিন দিনের নব সঙ্কল্প শিবির পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এবং একে অপরকে জানার ব্যাপারে খুবই সহায়ক হয়েছে বলে সভানেত্রী দৃঢ় বিশ্বাস পোষন করেন। এছাড়াও, তার মত হলো তরুন ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সদস্যদের ক্ষেত্রেও একে অপরকে জানার এবং মতের আদান প্রদানের ক্ষেত্রে এই ধরনের শিবির খুবই সহায়ক হয়। সনিয়াজি এই ক্ষেত্রে তার নিজের অভিজ্ঞতারও উল্লেখ করেন।
পরিশেষে সনিয়াজি তার দৃঢ় আশা ব্যাক্ত করে বলেন “উই উইল ওভারকাম” এবং কংগ্রেস এক নতুন শক্তিতে অচিরেই উদয় হবে, যা উদয়পুরের নব সঙ্কল্প শিবিরের মূল নির্যাস। 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.