মোদি সরকারের প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলির যৌথ বিবৃতি :

সৌরভ কুন্ডুর প্রতিবেদন, ২১ শে জুলাইঃ

গত মাসে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে ” ন্যাশনাল হেরাল্ড” মামলায় ED লাগাতার ৫ দিনে প্রায় ৫০ ঘন্টা ধরে জেরা করে। কংগ্রেস সভানেত্রী শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধীকেও ED সেই সময় ডেকে পাঠিয়েছিল কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তখনই ED-এর দপ্তরে হাজিরা দিতে পারেন নি। সুস্থ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় চেয়েছিলেন শ্রীমতি গান্ধী। ED, কিছুদিন সময় দিয়ে আজ অর্থাৎ ২১ তারিখে শ্রীমতি গান্ধীকে তাদের নয়া দিল্লিস্থিত অফিসে তলব করেছে । প্রতিহিংসার রাজনীতির যে খেলা বিজেপি খেলছে, এর শেষ কোথায় কেউ জানে না। এর আগে ও অন্যান্য সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের পদস্থ নেতৃত্বকেও ED, CBI বা EOW একইভাবে হেনস্থা করেছে ও বেশ কিছু ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার ও করেছে। যারাই বিজেপির কাছে মাথা নত করছেন না বা বিজেপির প্রলোভনের ফাঁদে পা দিচ্ছেন না, লক্ষ্য করা গেছে, বেছে বেছে ঠিক তাদেরই বিজেপির বশংবদ এই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির শিকার হতে হচ্ছে।

যে ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা মামলায় রাহুল গান্ধীকে লাগাতার জেরা করা হল বা আজ শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধীকে ED-এর দপ্তরে যেতে হল, সেই মামলা কোর্টে অনেক আগেই খারিজ হয়ে গেছে এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে সেই মামলা থেকে সবাই রেহাই পেয়েছেন তথাপি এত দিন পরে বিজেপি ও মোদি সরকারের অঙ্গুলিহেলনে ED আবার সেই পুরোনো মামলায় কংগ্রেস শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন। যে নেহরু, গান্ধী পরিবারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীরা দেশের জন্য প্রাণপাত করেছেন, স্বাধীনতার পর শূন্য থেকে শূরু করে দেশ কে উন্নতির চরম শিখরে উত্তোলন করেছেন, দেশের কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্য সীমার চোরাবালি থেকে উঠিয়ে সরল, স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে প্রতিস্থাপিত করেছেন, সেই পরিবারের বর্তমান দুই সদস্যকে ED কর্তৃক এই ভাবে হেনস্থা করা কে দেশের মানুষ মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না, দেখবেন না। এর সমুচিত জবাব বিজেপি ও মোদি সরকার পাবেই।

কমবেশি প্রতিটি রাজনৈতিক দলই বিজেপির এই প্রতিহিংসার শিকার। আমরা দেখতে পাই, কিছু দল ( নিজেদের সর্বভারতীয় দল হিসেবে দাবি করলেও আদতে তা’ নয় ) বিজেপির সাথে গোপনে আঁতাত করে নিচ্ছে। তলায় তলায় বোঝাবুঝি করা হচ্ছে এবং তাতে উভয়পক্ষেরই রাজনৈতিক ফায়দা। কিন্তু নির্ভীক ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কোনোদিন কারোর সাথে এই রকম টেবিলের তলা দিয়ে কোনো রফা করে নি, করবেও না। আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে কংগ্রেস নেতা ও কর্মীরা প্রাণ দিয়েছেন, নিজেদের আহুতি দিয়েছেন তবু স্বৈরাচারী ব্রিটিশ শাসকের কাছে মাথা নত করেন নি। আজও তেমন সত্যের জয় হবেই।

তাই, আজ কংগ্রেস পার্টির সমর্থনে অনেক সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল এগিয়ে এসেছেন। তারা যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন বিজেপি ও মোদি সরকারের এই লাগাতার প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে। যারাই মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন বা প্রতিবাদ করছেন, সেই সব রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধেই বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার কোমর বেঁধে লেগে পড়ছে তাদের জেলে পোরার জন্য, হেনস্থা করার জন্য।

যৌথ বিবৃতিতে যে সকল রাজনৈতিক দলের যোগদান আছে, তাদের সকলের কাছে আমরা, জাতীয় কংগ্রেস কর্মীরা কৃতজ্ঞ। এই যৌথ সংগ্রামই আগামী দিনে এই স্বৈরাচারী সরকারের (যারা দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছে) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের পাথেয় হবে। আমরা কৃতজ্ঞ সেইসব নেতৃত্বের প্রতি যাঁরা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এগিয়ে এসেছেন, স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মনে রাখবেন, এই লড়াই আমাদের একার নয়, এ আরেক স্বাধীনতার লড়াই।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.