সুদ কমিয়ে প্রবীন নাগরিকদের ওপর আঘাত মোদী সরকারের

অমিতাভ সিংহ

এই অর্থবর্ষের শেষে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য শক্তিশেল স্বল্পসঞ্চয়ে বিপুল সুদ ছাঁটাই। কিন্তু পাঁচ রাজ্যে ভোট শেষ না হওয়ার কারনে ভয়ে তা থেকে পিছিয়ে গেল মোদী সরকার।এটা পরিষ্কার যে এখন ভয়ে এই সার্কুলার রদ করলেও ২ মে ভোটের ফলপ্রকাশ হলেই নতুন উদ্যমে ও অনতিবিলম্বে এই সুদ কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এবার দেখা যাক কতটা কমছে এই সুদের হার।

২০১৩/১৪-২০২১

[table id=5 /]

উপরিউক্ত তালিকাতে নিশ্চয় স্পষ্ট হয়েছে কিভাবে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হার মোদীর আমলে দিন দিন কমিয়ে সাধারন মানুষ ও পেনসনভোগী বা অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবি ও যাদের পেনসন নেই তাদের প্রতি কি ধরনের অমানবিক আচরণ করা হয়েছে।কারণ তারা জীবনধারণ করেন এই সুদের টাকায়। এই নির্দেশনামা আবার জারি হলেই ব্যাঙ্কগুলি সুদ কমাতেই থাকবে।ফলে সুদ নির্ভর বয়স্ক নাগরিকদের অবস্থা কেমন তা সহজেই অনুমেয়। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম প্রায় ন’শো টাকায় পৌঁছে গেছে। কেরোসিনের ওপর ভর্তুকি প্রত্যাহারের পথে কেন্দ্র। পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা অতিক্রম করেছে। শাকসব্জী,ডাল,মশলা,ভোজ্য তেল,নুন,চিনি,যানবাহনের খরচ,রেলের ভাড়া সবই বেড়েছে কয়েকগুণ। বয়স হলেই বেড়ে যায় ডাক্টার ও ঔষধের পিছনে খরচও।ছেলে মেয়েদের শিক্ষার খরচও দিনদিন বেড়েই চলছে।এই অবস্থায় বয়স্ক নাগরিকেরা সংসার চালাবেন কি করে।ইউএপিএ সরকারের আমলে বহু মানুষ যা সুদ বাবদ আয় করতেন এখন তার অর্দ্ধেক আয় করতেই হিমসিম খেয়ে যাচ্ছেন তারা। মোদীভক্তরাও এই পরিস্থিতির শিকার।কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পাড়ছেন না।যে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কীমের ওপর অনেকটা ভরসা করতেন প্রবীন নাগরিকেরা সেখানেও সুদের হার টেনে নামানো হয়েছে ৯.৩% থেকে ৬.৫% এ।পিপিএফ এর সুদ তো গত ৪৬ বছরে সবথেকে কম।
কিন্তু কারণটা কি? সরকার বাজার থেকে যে ধার করে তার একটা বড় অংশই আসে স্বল্প সঞ্চয় থেকে। ফলে সুদ কম দিলে সরকারকেও সুদ বাবদ খরচ অনেকটাই কম করতে পারবে।গত সাত বছরে দেশের।অর্থনীতি ধ্বংস করে ও বানিয়াদের কাছে কাটমানি নিয়ে দেশের সম্পত্তি বিক্রি করে সরকারের হাতে পেন্সিল ছাড়া আর কিছুই নেই।তাই রেল থেকে বিমানবন্দর,তেল কোম্পানি থেকে ব্যাঙ্ক, রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানি থেকে বিএসএনএল, কংগ্রেস আমলে যা কিছু তৈরী হয়েছিল তার প্রায় সবকটাই বিক্রি করে সামাল দিতে চাইছে সরকার। সরকার এলআইসি থেকে টাকা নিয়ে আইডিবিআই,ইয়েশ ব্যাঙ্ককে বাঁচাতে টাকা ঢালবে,আর যারা এইসব ব্যাঙ্ক থেকে ঋৃণ নিয়ে ফেরত না দিয়ে পালিয়ে গেছে বা যেসব কর্মকর্তা এই দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না করে তাদের হাতেই এই ব্যাঙ্কগুলি তুলে দিতে চাইছে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে।আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধ্য তেলের দাম অনেক কম হওয়া সত্বেও দেশের মানুষকে বিশ্বের সব দেশের থেকে বেশী কর দিয়ে সবচেয়ে বেশী দামে পেট্রল ডিজেল কিনতে হয়।
সরকারের অর্থমন্ত্রী বলেছেন শেয়ার বা মিউচিয়াল ফান্ডে টাকা খাটাতে।এখানে টাকা খাটাবার যে ঝু্ঁকি আছে তা একবারও সরকার বলছে না। বিনিয়োগে বিশেষজ্ঞরা সবাই তাদের মক্কেলকে পরামর্শ দেন ৫০/৫৫ বছর হয়ে গেলে তাদের টাকা যেন শেয়ার বা মিউচিয়াল ফান্ডে না খাটানো হয়।কারণ এই বয়সে ঝুঁকি নেওয়া যায় না।লকডাউনের সময় যেভাবে সেনসেক্স রেকর্ড উচ্চতা থেকে নেমে এসেছিল ২৬০০০ এর নীচে এবং বহু লগ্নিকারীকে প্রায় পথে বসিয়ে দিয়েছিল তার স্মৃতি এখনও টাটকা।এখন বিদেশী বিনিয়োগের জন্য সেন্সেক্স ৫৫০০০ অতিক্রম করেছে কিন্তু বর্তমান সরকারের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে কতদিন টিকবে তা একেবারেই নিশ্চিত নয়।ফলে সাধারণ মানুষ ও বয়স্ক নাগরিকদের হাল দিন দিন আরও যে খারাপ হবে তা নিশ্চিত।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.