নব সংকল্প চিন্তন শিবির শুরু উদয়পুরে

নিজস্ব প্রতিবেদন :

আজ রাজস্থানের উদয়পুরে জাতীয় কংগ্রেসের “নব সংকল্প” চিন্তন শিবিরের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। আজ থেকে তিনদিন ধরে চিন্তন শিবিরে ছয়টিগ্রুপে মোট ৪০০ জন বিভিন্ন রাজ্যের নেতারা সমবেত হয়েছেন।রাহুল গান্ধী ট্রেনে করে উদয়পুরে পৌঁছেছেন।তারপর প্রতিটি স্টেশনে মালবাহকদের সংগঠনসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষেরা তাকে সম্বর্ধিত করেন।এইভাবেই তিনি এবারে দলীয় কর্মীসহ জনতার সাথে সংযোগ রক্ষা করলেন। উদ্বোধনী ভাষনে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি নিম্নলিখিত বিষয়গুলির ওপর জোর দিয়েছেন

• নব সংকল্প শিবির বিজেপি এবং আরএসএসের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নির্ধারণের এক মহার্ঘ সুযোগ, যা আমাদের জন্য এক কার্যকরী আত্মচিন্তন।

• “সর্বোচ্চ শাসন, সর্বনিম্ন সরকার” – এই কথা বলে মোদী মানুষের জন্য সর্বদা ভয়ের বাতাবরন সৃষ্টি করে রাখছে, সংখ্যালঘুদের ওপর উৎপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে এবং গনতান্ত্রিক অধিকারসমূহকে হরন করছে।

• পন্ডিত নেহরু এবং অন্যান্য মনীষীদের অবদানকে অস্বীকার করছে।

• গান্ধীজির হত্যাকারীদের গৌরবান্বিত করছে।

• ভয়ের বাতাবরণ বজায় রেখে সংবাদ মাধ্যমকে প্রশাসনের পছন্দসই সমর্থনকারী হিসেবে চলতে বাধ্য করছে।

• তার সরকার ও দল সারা দেশে ঘৃনা ও বিদ্বেষের আগুন ছড়িয়ে যাচ্ছে।# বিভিন্ন বিষয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

• মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার অভাব দেখা যাচ্ছে।

•নোটবন্দির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিশাল ক্ষতি সাধন হয়েছে, যা এক চুড়ান্ত হঠকারী সিদ্ধান্ত বলেই বিবেচিত।

• সরকারের কৃষি বিরোধী পরিচয় প্রমানিত হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে তিনটি কৃষক বিরোধী আইন জোর করে কার্যকরী করেও পরবর্তীতে সেগুলি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

• মনরেগা এবং খাদ্য সুরক্ষার মতো ইউপিএ সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলির অবমূল্যায়ন ঘটছে।

• সরকারের নীতির ফলে তফসিলি জাতি ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের দরজা বন্ধ হতে বসেছে।

• আমাদের দলীয় সংগঠনে সংশোধন এবং পরিবর্তন জরুরি। এই শিবির আমাদের সেই পথের দিশারি হবে।

• দল আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে, আমাদের তা ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। আমাদের ঐক্য ও শক্তির বার্তা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক।

• আমরা আমাদের দলকে তার পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো, যা দেশবাসী আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে।

• আমরা এই শিবির থেকে বর্ধিত আত্মবিশ্বাস এবং ঐক্যের বার্তা নিয়ে ফিরে যাবো।আগামী দুদিন সাংগাঠনিক,রাজনৈতিক, অর্থনীতি, কৃষি,যুব ও সামাজিক ন্যায় -জ এই ছয়টি বিষয়ে খসড়া প্রস্তাব তৈরী করে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা আলোচনা করে এক দিকনির্দেশ করবে বলে জানা গেছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.