নয়া পেনশন স্কীম নিয়ে তৃণমূল চুপ কেন?

মানস ব্যানার্জী


পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অবসর নেওয়ার পর সর্বাধিক ৪০% পেনশন নিশ্চিত করা যায়৷ অর্থাৎ বিক্রি করা যায়৷ ১ টাকায় ৮০০/৯০০ (চাকরির মেয়াদের উপর) টাকা পাওয়া যায়৷ তারপর Basic এর অর্ধেক পেনশন হয়৷‌ যাকে এখন OPS বা Old Pension Scheme বলা হচ্ছে।ন্যুনতম পেনশন ১৩,০০০ টাকা। সর্বোচ্চ ১,০৫,০০০ টাকা।
এটা কংগ্রেস সরকারের আমল থেকেই চলে আসছে। বামেরা এর কোনো পরিবর্তন করেনি।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০০৪ সালের আগে কর্মপ্রাপ্ত কর্মীদের আমাদের নিয়মেই পেনশন দিত। তারপর বর্তমান বিজেপি সরকার Contributor Pension Scheme আনার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। যা NPS বা New Pension Scheme নামে নামাঙ্কিত। অর্থাৎ, একজন কর্মী পেনশনের জন্য যত টাকা কাটাবেন কেন্দ্রীয় বা অনান্য রাজ্য যারা এই CPS লাগু করেছেন তাঁরা ১২০% অতিরিক্ত দিয়ে মোট টাকা শেয়ার বাজারে খাটাবেন৷ যারা ২০০৪ সালের পর চাকরি পেয়েছে তাদের এখনও অবসরের বয়স হয়নি বলে লাভ লোকসান বোঝা যাচ্ছে না৷ তবে রিস্ক আছে৷
NPS-এর সমস্যাসমূহ:• OPS-এর তুলনায় কম সুবিধা লাভ।• টাকা তোলার ওপর সীমাবদ্ধতা।• টাকা তোলার সময় কর প্রদান।• Account খোলার সীমাবদ্ধতা।• লগ্নীর সীমাবদ্ধতা।• ফেরত রাশির ওপর অনিশ্চয়তা। শেয়ার বাজারের ওঠানামার উপর নির্ভর করে এর ফেরতমূল্য।
বর্তমানে রাজস্থান, ছত্তিশগড় OPS-এ ভরসা রেখেছে। পাঞ্জাব, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ NPS-এ ভরসা রাখছে না।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও অবধি সরকারিভাবে NPS-এর বিরোধীতা করেনি। সম্প্রতি আইএনটিইউসি সহ সকল কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন NPS বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটে সামিল হয়। আইএনটিইউসি অনুমোদিত Central Government Employees & Workers Confederation (West Bengal)-এর Executive Committee এই NPS বাতিলের দাবিতে সহমত পোষণ করে। কিন্তু তৃণমূলের শ্রমিক ও কর্মচারী  সংগঠনগুলির এক্ষেত্রে কোনো উচ্চবাচ্য চোখে পড়েনি।
(লেখক রাজ্য কোঅর্ডিনেটর, আইএনটিইউসি পশ্চিমবঙ্গ শাখা)

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.