না ফেরার দেশে কিংবদন্তী সন্তুর বাদক শিবকুমার শর্মা

মুকুল বসাক:

প্রয়াত কিংবদন্তী সন্তুর বাদক শিবকুমার শর্মা । মঙ্গলবার মুম্বইয়ে নিজের বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন কিংবদন্তি সন্তুরবাদক । মৃত্যকালে বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি গত ছয় মাস ধরে কিডনি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তাঁর ডায়ালাইসিস চলছিল। অবশেষে আজ সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী মনোরমা ও ছেলে রাহুল শর্মাকে রেখে গেলেন। রাহুল শর্মাও একজন সন্তুরবাদক।

জন্মু ও কাশ্মীরের একটি বিশিষ্ট বাদ্যযন্ত্র ‘সন্তুর’ যা শিবকুমার শর্মার হাত ধরে খ্যাতি লাভ করে ভারত তথা সারা বিশ্বের সঙ্গীত দরবারে।

১৯৮০ সালে সিলসিলা ছবির হাত ধরে চলচ্চিত্রে সুর সংযোজনার কাজে তাঁর অভিষেক হয়। সিলসিলা ছাড়াও একাধিক চলচ্চিত্রে তাঁর সন্তুরের সুর ভারতবাসীর হৃদয়ে স্নিগ্ধতা তৈরী করেছে। বছর দুয়েক আগে কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “কিছু ঐশ্বরিক শক্তি আমাকে সারাজীবন পথ দেখিয়েছে।” তাঁর পিতা উমা দত্ত শর্মাও বেনারস ঘরানার শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন গুণী শিল্পী ছিলেন। পিতার অনুপ্ররণাতেই তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে পা রাখেন। শিবকুমার শর্মার জন্ম হয় ১৩ জানুয়ারি, ১৯৩৮ সালে জম্মুতে হয়। তিনি বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ১৯৮৬ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার, ১৯৯১ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০০১ সালে পদ্মবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৮৫ সালে, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশিষ্ট বাঁশিবাদক হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার সঙ্গে তাঁর জুটি খুব জনপ্রিয় ছিলো। তাঁরা একাধিক কালজয়ী সুর সৃষ্টি করেন। এই জুটি ভারতীয় সঙ্গীত জগতে একত্রে “শিবহরি” জুটি নামে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.