বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ

অমিতাভ সিংহ:

“বাংলার মাটি বাংলার জল

বাংলার বায়ু বাংলার ফল

পুণ্য হউক পুণ্য হউকপুণ্য হউক হে ভগবান”

এই গানটি গাইতে গাইতে ৩০ আশ্বিন ১৩১২ বা ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ সাল,সকালে রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে শহরের বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এক বিশাল শোভাযাত্রা জগন্নাথ ঘাটে এসে পৌঁছাল। গঙ্গাস্নান সেরে একে ওপরের হাতে রাখি পরিয়ে দিলেন। রাস্তার দুধারে বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে ফুটপাথ পর্যন্ত লোকজনের কেউ শাঁখ বাজাচ্ছে,কেউ বা খই ছড়াচ্ছে। ওপরের গানটি বঙ্গভঙ্গ উপলক্ষে লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। রাস্তার একধারে ছিল বীরু মল্লিকের আস্তাবল, দেখা গেল কয়েকজন মুসলমান সহিস ঘোড়ার যত্নআত্তি করছে।রবিঠাকুর হঠাৎ ওদের কাছে ছুটে গিয়ে তাদের হাতে রাখী পরিয়ে দিলেন।তারপর কোলাকুলিও হল। তারপর কবির খেয়াল হল চিৎপুরে জামা মসজিদে গিয়ে সবাইকে রাখী পড়াবেন।হলও তাই নির্বিঘ্নে। জাতিধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত বাঙালীর রাখীবন্ধনের দিন ছিল সেদিন।কলকাতায় হল স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট।কারণটি সবার জানা,বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে শুরু হল বাঙালীর বিক্ষোভ যা একসময় সারাভারত ছড়িয়ে পড়েছিল।

১৯০৩ সালের ৩ ডিসেম্বর, ক্যালকাটা গেজেটে অখন্ড বঙ্গদেশকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাব প্রকাশিত হয়।তাতে বলা হয়েছিল পূর্বাংশ(ঢাকা,চট্টগ্রাম ও রাজসাহি বিভাগ) যাবে অসমের সাথে ও পশ্চিমাংশ( বর্ধমান ও প্রেসিডেন্সি বিভাগ) যাবে বিহার,ছোটনাগপুর ও ওড়িশার সাথে।ভারতের রাজধানী তখন কলকাতা আর ভাইসরয় লর্ড কার্জন।তারপর ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ হল বঙ্গভঙ্গের ঘোষনা।এর ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোন প্রভাব না পরলেও বাঙালীর হৃদয়ে এক গভীর মর্মযন্ত্রণা তৈরী করে।তারই ফলশ্রুতি দিকে দিকে ছড়িয়ে পরা প্রতিবাদের আগুন – শহর থেকে গ্রামে। তাসত্বেও ব্রিটিশরা বঙ্গভঙ্গ করেছিল নিজেদের প্রয়োজনেই। বঙ্গকে ভাগ করে এই বিশাল এলাকার সংহতি বিধ্বস্ত করাই ছিল তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। তাদের যুক্তি ছিল বেঙ্গল প্রেসিডেন্সীর বিশাল আয়তন(১৮৯,০০০ বর্গ মাইল) ও জনসংখ্যা ৭.৮ কোটি হওয়ার কারনে এদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল দূর্বল। ফলে প্রাশাসনিকভাবে কাজ করতে অসুবিধে হত। তাই বিভাজন। দ্বিতীয় কারণ ছিল কলকাতা ভারতের রাজধানী হওয়ায় উচ্চ আদালত,মহাবিদ্যালয়, সরকারি ও সওদাগরি অফিস,অসংখ্য পত্র পত্রিকা ও তাদের লেখক ও বিদ্বজন সম্প্রদায় যেমন,আইনজীবী, শিক্ষক ও জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষজনের বাস ছিল এই কলকাতায়। জাতীয় কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতার কর্মস্থল ছিল কলকাতায় বা তার সন্নিহিত অঞ্চলে। এদের সংগঠিত হতে দিলে বিপদ। এটা বুঝতে পেরেছিল বলেই এই হীনবল চক্রান্ত। তাই প্রথমে বাংলা ভাগ ও তারপর রাজধানী অন্যত্র নিয়ে যাওয়া। এরপরই বাঙালী নেমে এল পথে,বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ধ্বনিত হল তাদের কন্ঠস্বর গ্রাম থেকে নগরেএইসময় জাতীয় কংগ্রেস সারা ভারতে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলল।সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বিদেশী পণ্য বর্জনের ডাক দেয় কংগ্রেস। একইসাথে বিদেশী পণ্য আমদানী ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা হয়। কংগ্রেসের স্বদেশী আন্দোলন সারা দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে।সরকারী অফিস,আদালত,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্জনের সাথে সাথে দেশীয় শিল্প,কারখানা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। ১৯০৬ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজ ঘোষনা করা হয়।পরের বছর সুরাত কংগ্রেসে বঙ্গভঙ্গ নিয়ে আলোচনা এক বিশেষ দিক নির্দেশ করে। বাংলার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী,মতিলাল ঘোষের নেতৃত্ব,দিজেন্দ্রলাল,বঙ্কিমচন্দ্র,রজনীকান্তর গান ও তার সাথে সাংবাদিক কৃষ্ণ কুমার মিত্রর কলমও এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পিছনে এক বিশিষ্ট ভূমিকা নিয়েছিল। যুগান্তর,সন্ধ্যা, বন্দেমাতরম সংবাদপত্রের ভূমিকাও অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। নিবারনচন্দ্র ও ফজলুল হকের সাপ্তাহিক ‘ বালক’ ও মাসিক পত্রিকা ‘ সুহৃিদ’ অসাম্প্রদায়িক মনোভাবযুক্ত প্রচার দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে মেলবন্ধনের কাজ করেছিল।

বাংলার মানুষ এমনিতেই ইশ্বরবিশ্বাসী।অধিকাংশ নামই তখন হত দেবদেবীর নামে চিহৃিত। বাংলার নারীরা পালন করত বহু ব্রত।তারা এক নতুন ব্রত পালন করতে শুরু করলেন,তা হল বঙ্গলক্ষীর ব্রত। ঠিক হল অশ্বিন মাসের বঙ্গভাগের দিন হবে এই ব্রত- অরন্ধন। দেশসেবা,রোগী ও শিশুর প্রয়োজনে যেটুকু উনুন জ্বালাবার দরকার হয় তার বাইরে কেউ উনুন জ্বালাবেন না। কিছু বিধিও তৈরী হল।এক বিজ্ঞানের অধ্যাপক, রমেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী ছিলেন ব্রতটির মূল উদ্যোক্তা। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের প্রথমদিনে ব্রতকথায় সমস্ত মানুষের কন্ঠে উচ্চারিত হয় “আমরা ভাই ভাই এক ঠাঁই।ভেদ নাই ভেদ নাই।” সেদিন বিশাল ভারতবর্ষের এক ক্ষুদ্র অংশে যে জনজাগরন জন্ম নিয়েছিল তা ছড়িয়ে পড়েছিল বিশাল দেশের কোনে কোনে।বাংলায় আবহমানকাল ধরে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায় মিলেমিশে বাস করছিলেন সেখানে ঢুকল বিষ।ব্রতকথায় ঢুকল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংহতির বানী। ভারতীয়তায় উদ্বুদ্ধ কিছু মুসলমান সেদিন “বঙ্গ আমার জননী আমার ধাত্রী আমার আমার দেশ” গাইলেও অধিকাংশ মুসলমানই সেদিন একসাথে সুর মেলাতে পারেন নি। এটা হয়ত ছুতোর,রাজমিস্ত্রি বা শ্রমজীবি মুসলমানদের প্রতি হিন্দুদের তাচ্ছিল্যের একটা কারণ।ফিরে আসি মূল প্রসঙ্গে, ৬ আগষ্ট ১৯০৫ সালে কলকাতা প্রস্তাবের খবরটি প্রকাশ করে।ভাইসরয় লর্ড কার্জন এই প্রস্তাবটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেন। এসময়ই উদ্ভব হয় সশস্ত্র বিপ্লব আন্দোলন।রবীন্দ্রনাথ তাঁর স্বদেশী সমাজে লেখেন গঠনমূলক কাজের কথা। দ্বিতীয় ধারা বয়কট ও তৃতীয় ধারায় ছিল চরমপন্থা। গড়ে ওঠে ঢাকায় অনুশীলন সমিতি,কলকাতায় যুগান্তর গোষ্ঠী। ঐতিহাসিক সুমিত সরকার দেখিয়েছেন যে অরবিন্দ ঘোষ তখন প্রকাশ্যে কংগ্রেসের ও গোপনে বিপ্লবীদের মাধ্যমে বৃটিশদের যুগপত আক্রমন করতে চেয়েছিলেন।বঙ্গভঙ্গ ঘোষনার পরদিন ১৬ অক্টোবর সকালে রবীন্দ্রনাথের সভা ও বিকালে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশী মানুষের জনসভা। বক্তা আনন্দমোহন বসু,সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী। জনসভায় প্রাপ্ত ৫০০০০ টাকার তহবিল নিয়ে শুভারম্ভ হল যা সংগৃহিত হল মাত্র কয়েক ঘন্টায়।রবীন্দ্রনাথ কিছুদিন আগেই গিরিডিতে গিয়েছিলেন।তখনই লিখেছিলেন বেশ কয়েকটি ( ২২/২৩ টি)স্বদেশপ্রেমের গান। আমার সোনার বাংলা,যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,অয়ি ভূবনমনোমোহিনী,আমার দেশের মাটি,এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে,সার্থক জনম আমার,আমি ভয় করব না ভয় করব না,নিশিদিন ভরসা রাখিস,আজ বাংলাদেশের হৃদয় হতে,বিধির বাঁধন কাটবে তুমি ইত্যাদি গানগুলি লোকের মুখে মুখে ফিরতে লাগল।অমৃতবাজার পত্রিকাতে রবি ঠাকুরের এই নতুন স্বদেশী গানগুলি শেখানোর জন্য ডন সোসাইটি বিজ্ঞাপন দিল। রবি ঠাকুর রাখিবন্ধন উপলক্ষে বেশ কিছু বন্ধু- বান্ধবদের রাখি ও কার্ড পাঠিয়ে দেন।জগদীশচন্দ্র লিখলেন ‘তোমার লেখনী স্বর্ণময় হউক’।বরিশালের জননেতা অশ্বিনী কুমার দত্ত লিখলেন আপনার পাঠানো রাখি পরে কৃতার্থ হয়েছি।বাগবাজারে রায় পশুপতিনাথ বসুর অট্টালিকায় বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে তিনি এলেন ভাষন দিতে যা অমৃতবাজার বিরাটভাবে প্রচার করল।এখানে তিনি বিজয়া সম্মিলন প্রবন্ধটি পাঠ করেন।বললেন এই পূণ্যদিনে নিজেদের হৃদয়কে বাংলাদেশের সবজায়গায় নিয়ে যাও।চাষি,রাখাল,পূজার্থী,নামাজ পড়া মানুষকে সম্ভাষণ করে প্রার্থনা কর”বাংলার মাটি বাংলার জল,বাংলার বায়ু,বাংলার ফল,পুণ্য হউক পুণ্য হউকপুণ্য হউক হে ভগবান।”এভাবেই তিনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বার্তা দিলেন যাতে মুসলমানেরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন না ভাবেন। পার্টিশনের ভিক্ষা প্রবন্ধে তিনি কংগ্রেসের ডাকে বিদেশী দ্রব্য বর্জন ও স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহারের ওপর জোর দিলেন।একইসাথে তিনি বিদেশী রীতিনীতি বর্জনের ডাকও দিলেন। ‘করতালি’ ও ‘শোকচিহ্ন’ প্রবন্ধে তার পরিচয় আমরা পাই। তিনি স্টার,ক্লাসিক, গ্রান্ড,ইউনিক ইত্যাদি বাঙালী পরিচালিত নাট্যমঞ্চগুলির বিদেশী নাম বর্জনের পক্ষে ছিলেন। ভান্ডার পত্রিকায় ১৩১২ সালের ভাদ্র – আশ্বিন সংখ্যায় দেশিয় নাম শীর্ষক প্রস্তাবে তিনি এই পরিবর্তনের সুপারিশ করেন।শিশির কুমার ভাদুড়ি ১৯২৪ সালে নাট্যমন্দির প্রতিষ্ঠা করে কবির প্রস্তাবের মর্যাদা দেন।স্বদেশী ভিক্ষুসম্প্রদায় প্রবন্ধে তিনি লিখলেন,ভিক্ষু সম্প্রদায় যদি কলকাতার রাস্তায় সহজ কথা ও সুরে স্বদেশী গান বেঁধে দ্বারে দ্বারে যায় তাহলে দেশের কাজ হবে। তখনই বন্দেমাতরম সম্প্রদায় নামে একটি দলের প্রতিষ্ঠা হল।এই সম্প্রদায়ের সভাপতি সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, রবীন্দ্রনাথ,চিত্তরন্জন দাস,সহ- সভাপতি, অমৃতলাল মিত্র কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।রবীন্দ্রনাথের লেখা” আমরা পথে পথে যাব সারে সারে” গানটি গাইতে গাইতে ভিক্ষুর দল পৌঁছে গেল বাড়ীর দরজায় দরজায়। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচারণায়(পিতৃস্মৃতি) দেখেছি দীনেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে বৈতালিক দল গঠনের কথা ও গান গেয়ে ন্যাশানাল ফান্ডের জন্য টাকা তুলতে।পানওয়ালা বা ফেরিওয়ালারাও সেই তহবিলে টাকা দিত।মহিলাদের সামিল করতে ব্রতধারন ও উদ্বোধনের মত প্রবন্ধ লিখেছেন।তিনি তখন একাধিক জায়গায় সভায় ভাষন দিয়ে চলেছিলেন।বঙ্গভঙ্গে আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২২ অক্টোবর যখন স্কুল ছাত্রদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখার জন্য সার্কুলার দেওয়া হল। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২৪ অক্টোবর ফিল্ড একাডেমী হলে সভা হল। এই সভায় ঘোষিত হল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংকল্প যা রবি ঠাকুর দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলেন।তার ঠিক পাঁচদিন পরে কবির সভাপতিত্বে পটলডাঙায় চারুচন্দ্র মল্লিকের বাড়ীতে হাজারখানেক ছাত্র এক সভায় মিলিত হলেন।বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি যেমন বিপিনচন্দ্র পাল,ভূপেন্দ্রনাথ বসু,সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়,কৃষ্ণকুমার মিত্র প্রমূখ।এরপর বেশ কয়েকটি সভায় ছাত্রদের মাঝে তিনি ভাষন দেন।

১৯১০ সালে ভাইসরয় হয়ে ভারতে আসেন লর্ড হার্ডিন্জ।তিনি দেখেন যে সারা ভারত বঙ্গভঙ্গপর বিরুদ্ধে ফুঁসছে।এরপর পঞ্চম জর্জ ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ করার সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন দিল্লীতে।এটা ঠিক যে তিনি প্রত্যক্ষভাবে কোন রাজনৈতিক দলে যোগ না দিলেও কংগ্রেসের আহ্বানে তিনি বেশ কয়েকবার এগিয়ে এসেছিলেন,এমনকি কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে তিনি স্বরচিত গান পরিবেশন করেছিলেন। বৃটিশরাজের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের বেশ কিছু আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি যে সর্বতোভাবে সাহায্য করেছিলেন একথা অনস্বীকার্য।

ছবিঃ সংগৃহীত

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

#tagore&congressidea

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.