কৃষক স্বার্থে শেষ দেখে ছাড়বেন রাহুল

শুভ মিত্রঃ

সর্বনাশা কৃষি আইনের মবিরুদ্ধে গত ১৫ ই জানুয়ারি সারা দেশে কংগ্রেস পালন করল “কিষান অধিকার দিবস”।প্রতিটি রাজ্যে কংগ্রেসের নেতৃত্ব মিছিল করে রাজভবনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দেয়। দিল্লীতে যন্তর মন্তরে পাঞ্জাবের কংগ্রেস সাংসদের কয়েকদিন ও রাত ধরে চলা অবস্থান বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী।একটি বিশাল মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে সেদিন রাজভবন ঘেরাও কর্মসূচীও নেওয়া হয়, যদিও পুলিশ তা আটকে দেয়। তারপরই রাহুল যন্তর মন্তরে উপস্থিত হন।সেখানে তিনি বলেন সরকার যদি তিনটি কৃষি আইন তুলে না নেয় তাহলে আগামীদিনে মোদি সরকারের লক্ষ হবে সাধারন মানুষের সবকিছু আত্মসাৎ করে তাদের বন্ধুদের হাতে তুলে দেওয়া।আজ কৃষকবন্ধুরা এই চালাকি ধরে ফেললেও বাকি দেশবাসী তা বুঝতে পারছেন না।দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।মানুষের স্বাধীনতা বিলীন হয়ে গেছে। মোদি ও তার পুঁজিপতি বন্ধুরা একদিকে,অন্যদিকে পুরো দেশবাসী।তিনি আরো প্রশ্ন করেন, “দেশবাসী কি বুঝতে পারছেন না যে যদি কৃষকদের স্বাধীনতা না থাকে তাহলে আগামীদিনে সরকারের নিশানায় থাকবে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষেরা।এখনই যদি এই সরকারকে নিবৃত্ত করা না যায় তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যে অনেক দুর্দশা লেখা আছে। তাই আমি যত বাধাই আসুক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি দেশের মানুষের স্বার্থে সরকারের কু-উদ্দেশ্যের বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করে যাব।” তিনি আরও বলেন যে, মোদির মাত্র চার-পাঁচ জন জন পুঁজিপতি বন্ধু দেশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে;মিডিয়া,তথ্য প্রযুক্তি,বৈদ্যুতিক শক্তি,রিটেল সামগ্রী বিক্রয়,বিমানবন্দর,বন্দরসহ সবকিছু। এরা মোদির সাহায্য নিয়েই তাদের ব্যবসা বাড়াচ্ছে।মোদির ধারণা এই চার-পাঁচ জন শিল্পপতিই দেশ চালানোর জন্য যথেষ্ট। তিনি ভুলে গেছেন যে তরুন,শ্রমিক,কৃষকেরাই দেশ চালায়।১৯৪৭ এ দেশ স্বাধীন হয়,কিন্তু কারা তা অখুন্ন রেখেছেন? এই কৃষক ও শ্রমজীবি মানুষ– আদানী অম্বানীরা নয়। এই কৃষি আইন কৃষকের জন্য নয়, তাদের শেষ করে দেওয়ার জন্য।তাঁর অভিযোগ মোদী তখনই কৃষকদের সর্বনাশ করতে চেয়েছিলেন যখন জমি অধিগ্রহন আইনকে হত্যা করতে চাইলেন। মোদীর কোন ধারণাই নেই কৃষকসমাজের শক্তি সম্পর্কে। আলোচনার নামে সময় নষ্ট করে লাভ হবে না। এই আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কৃষকেরা বিক্ষোভ বন্ধ করবেন না আর কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত তাদের পাশে থেকেই লড়াই করবে।কৃষকেরা ক্লান্ত হয়ে রণে ভঙ্গ দেবে না,মোদী সরকারকেই একসময় রণপ ভঙ্গ দিতে হবে।তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছেন যে এখনো পর্যন্ত দেড় শতাধিক চাষীর মৃত্যু কি তাঁকে এতটুকুও বিচলিত করে নি।তাহলে তাঁদের জন্য কোন সহানুভূতি প্রকাশ করলেন না কেন? আসলে কৃষকদের প্রতি তাঁর কোন সম্ভ্রমই নেই।
গত ১৯ জানুয়ারি কংগ্রেসের সদর দপ্তরে কৃষি আইন ও তার সমস্যা সম্পর্কে একটা পুস্তিকা প্রকাশের অনুষ্ঠানে রাহুল বলেন, একটা বড় দুঃখজনক ঘটনা এখনো সামনে আসে নি;তা শুধু কৃষকদের সম্পর্কে নয়, তা দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে,দেশের শক্তি কতটা অবশিষ্ট থাকবে তার সম্পর্কে। মাত্র কয়েকটি ব্যবসায়ী এখন দেশের মালিক। বিভিন্ন শিল্পের শতকরা ৬০ ভাগই তাদের হাতে তুলে দিওয়া হয়েছে অর্থের বিনিময়ে ও মোদির সাথে সুসম্পর্কের জন্য। এর ফলে দেশের যুবকেরা চাকুরি পাবে না বা ভবিষ্যতে সাধারণ বাড়ীর সন্তানেরা কখনও কোন শিল্প বা ব্যবসা করতে পারবে না। দুঃখের বিষয় এটাই যে দেশের মানুষ এখনও এই হাস্যকর নাটক দেখেও চুপ করে আছেন।তাদের পরবর্তী প্রজন্ম যখন ক্ষতিগ্রস্থ হবেন তখন তারা যেন মনে রাখেন একদিন রাহুল গান্ধী তাদের সাবধান করে দিয়েছিল। একজন দেশপ্রেমী হিসাবে আমার কর্তব্য দেশকে রক্ষা করা,আমি তা থেকে বিচ্যুত হব না। প্রয়োজনে আমি একাই ঐসব দুষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করব কারণ এটাই আমার ধর্ম। “আজ থেকে ৭০/৮০ বছর আগে আমার দেশ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল, একই অবস্থা এখন দেখা যাচ্ছে। আমার মত যারা সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন তাদের অনেককেই সরকার জেলবন্দী করেছে,হয়ত আমাকেও করবে।কিন্তু যদি সব শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরা আজ রাস্তায় নেমে প্রতিবার করেন তাহলে সরকার বাধ্য হবে তাদের জনবিরোধী কার্য্যকলাপ থেকে সরে যেতে।”– এমনই মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.