না ফেরার দেশে চলে গেলেন জীবনপুরের পথিক তরুণ মজুমদার

নিজস্ব প্রতিবেদন, ৪ ঠা জুলাই :

ভালোবাসার বাড়ি ছেড়ে চিরবিদায় নিলেন তরুণ মজুমদার। সোমবার সকালে এস এস কে এম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯১ বছর।দীর্ঘ দিন ধরেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

বাংলা চলচ্চিত্রে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সুখ দুঃখ হাসি কান্নার গল্পকে তুলিতে এঁকে গেছেন যে কজন, তাঁর মধ্যে অন্যতম তরুণ মজুমদার। উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত চাওয়া পাওয়া (১৯৫৯) তরুণ মজুমদারের প্রথম পরিচালিত ছবি। তাঁর পরিচালিত প্রথম জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি কাঁচের স্বর্গ (১৯৬২)। এরপরে পলাতক, নিমন্ত্রণ, সংসার সীমান্তে (১৯৭৫), গণদেবতা — এই সব ছবি সমালোচক মহলে বহুল প্রশংসিত হয়। তাঁর পরিচালিত বালিকা বধূ (১৯৬৭), কুহেলী (১৯৭১), শ্রীমান পৃথ্বীরাজ (১৯৭৩), ফুলেশ্বরী (১৯৭৪), দাদার কীর্তি (১৯৮০), ভালোবাসা ভালোবাসা (১৯৮৫), পরশমণি (১৯৮৮) ও আপন আমার আপন (১৯৯০) বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে।

তাঁর সংগ্রহে রয়েছে চারটি জাতীয় পুরস্কার, সাতটি বি.এফ.জে.এ. সম্মান, পাঁচটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও একটি আনন্দলোক পুরস্কার। ১৯৯০ সালে তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়।গল্পবলার সুনিপুণ জাদু তাঁর সিনেমা জুড়ে ভেসে উঠে রুপালি পর্দায়।

তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা তিনি লিখে গেছেন বৈঠকি আঙ্গিকে। সেখানে তরুণ মজুমদারের হাতে ক্যামেরা ছিলোনা , ছিলো কলম। এক মায়াবি জাদুকলম। যা দিয়ে তিনি লিখেছেন প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার পরিসর জুড়ে এক সুবিশাল ‘চিত্রনাট্য’। তাঁর স্মৃতিকথা ‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’।

১৪ই জুন হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তরুণ বাবুকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল বর্ষীয়ান পরিচালকের।ভিন্নধারার অত্যন্ত রুচিসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করে গেলেন তরুণ বাবু। তাঁর চলচ্চিত্রে রবীন্দ্র সঙ্গীতের এক বিশেষ ভূমিকা সর্বদা লক্ষ্য করা গেছে। তাঁর প্রয়ানে চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল।

তিনি মানতেন, সিনেমা পাড়ার যাত্রা কখনও ফুরোয় না।তাই এ যাত্রাও ফুরোবে না। তিনি গল্প বলার যাদুদন্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকবেন ক্যামেরার পিছনে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.