মোদি সরকারের আট বছর –ব্যর্থতার নগ্ন দলিল-

পার্থ মুখোপাধ্যায়ঃ

মোদী সরকার এবং সার্বিক ব্যর্থতা, এই দুটিই সমার্থক। মোদী সরকার গত ৮ বছরে ভারতবর্ষকে এক চরম বিপদের মধ্যে ফেলেছে, যখন দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চরমে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্ব হারাচ্ছে, তখন দেশের বিশাল দুর্বল জনগোষ্ঠীকে নিজ নিজ দায়িত্বে আত্মনির্ভর হতে বলা হচ্ছে। এর চেয়ে নিষ্ঠুর রসিকতা আর কি হতে পারে?সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার মূল সমস্যা গুলি থেকে দৃষ্টি সরাতে বিজেপি ধর্মীয় বিভেদের বীজ বপন করছে, যা তাদের নির্বাচনী সুফল দিচ্ছে। করোনা কালে এইসব সমস্যা বৃদ্ধি পেলেও, নোটবন্দি এবং দিশাহীন জিএসটি বলবৎ করার মত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে সমস্যাগুলি করোনার আগেই সামনে ফুটে উঠেছিলো।

২০১৬’র নোটবন্দি ও ২০১৭র জিএসটির পর থেকেই দেশের জিডিপির পতন শুরু হয়েছিলো,যার ফলে ২০২৪ সালে ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষে পৌঁছানো এখন সদূরপরাহত। এমনকি, অর্থনীতির বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০১৪র আগের অবস্থানে ফেরত আসা আগামী ২০৩৫ সালের আগে সম্ভব নয়।

জিএসটির কারনে রাজ্যগুলির কোষাগারের ২০২২ এর মার্চ পর্যন্ত ক্ষতির মোট পরিমান ৫৩ হাজার কোটি টাকা। মোদী সরকার এই ক্ষতিপূরণের টাকা না দিলে রাজ্যগুলি ভবিষ্যতে বিশাল আর্থিক ঘাটতির সম্মুখিন হবে। দেশের অর্থনীতির খারাপ অবস্থা আরও প্রকট ভাবে ফুটে ওঠে যখন দেশের টাকা “রুপি” র ডলার প্রতি মূল্য রেকর্ড কমে হয় ৭৭ রুপি ৪০ পয়সা। এছাড়াও, খুচরো মুদ্রাস্ফীতি গত ৮ বছরের সর্বাধিক ৭.৭৯% এবং পাইকারি মূল্য সূচক ১৪.৫৫% হয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর গত ৮ বছরে যথাক্রমে ৩৫০% এবং ৮০০ % কর ও উৎপাদন শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। এই সব বৃদ্ধির উপর্যুপরি ফলাফল সাধারন মানুষের ঘাড়েই চাপছে।

২০১৭-১৮ সালেই দেশের বেকারত্ব ৬.১% হয়েছিলো, যা গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। এই বেকারত্ব ২০২২ এর মার্চে বেড়ে হয়েছে ৭.৪৩%।

এই অবস্থায় সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে পূর্বতন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের মনরেগা ( একশ দিনের কাজের অধিকার)প্রকল্পের ওপরই মানুষ বেশি নির্ভরশীল হয়েছে, যদিও মোদী সরকার এই প্রকল্পটিরও বরাদ্দকৃত অর্থ বর্তমানে ব্যাপক কমিয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে মোদী সরকারের প্রথম ৫ বছরেই কৃষির ক্ষেত্রে আয় প্রায় ৯% হ্রাস পেয়েছে। মোদী সরকারের আমলে পুনরায় ৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ গরীবি সীমার নিচে নেবে গেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম গনতন্ত্র ভারতবর্ষে গনতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি তুল্যমূল্য বিচারে সারা বিশ্বের প্রেক্ষিতে ক্রমশই নিচে নেমে চলেছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আজ ভারতের অবস্থান বিশ্বে ১৫০ তম। সারা বিশ্বের চোখে ভারতবর্ষ সাংবাদিকদের জন্যে অন্যতম বিপদ সঙ্কুল দেশ। এছাড়াও, সমাজের দুর্বল শ্রেণির মানুষদের ওপর অত্যাচারও আগের চেয়ে চার গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। মোদী সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিরোধীদের শায়েস্তা করতে ইউএপিএ আইনের দমনমূলক ব্যবহার যথেচ্ছ ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোদী সরকারের আমলে প্রতি বছরে ৯৮৫ টি করে নতুন কেস এই আইনের আওতায় করা হয়েছে।

ছবি:- গুগল থেকে সংগৃহীত

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.