রতুয়া মার্ডার কেস–SIT এর দেওয়া চার্জশিটে শাসক তৃণমূলের নেতাদের নাম

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা; ৭ই জুলাইঃ

মালদার কংগ্রেস নেতা মাসুদ আলম সহ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর অবশেষে রতুয়া মার্ডার কেসে চার্জশিট গঠন করলো SIT।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক আগে আগেই মালদার রতুয়া-২ নম্বর ব্লকের শ্রীপুর – ২ অঞ্চলে খুন হন নয়ন মন্ডল। খুনের সময় ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে নির্বাচনী প্রচার সভায় উপস্থিত ছিলেন মালদা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম। কিন্তু খুনের ঘটনায় মাসুদ আলম সহ ২৪ জনের নামে পুলিশ মামলা করে। এমনকি FIR এ নাম না থাকা সত্ত্বেও মাসুদ আলমের ভাই, ভগ্নিপতি এবং আরো একজন কংগ্রেস প্রার্থীর ভাই-এর নাম অভিযুক্তদের তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। মিথ্যা মামলায় মাসুদ আলমের মতো দক্ষ সংগঠককে জড়িয়ে দিয়ে, প্রতি মুহূর্তে তাকে পুলিশি হেনস্তা করে প্রায় ফাঁকা মাঠে নির্বাচনের সময় অবাধে ভোট লুঠ ও সন্ত্রাস করে জয়ী হয় শাসক তৃণমূল। উল্লেখ্য জেলা পরিষদের একটি আসনে সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মাসুদ আলমের স্ত্রী। এ প্রসঙ্গে মাসুদ আলম জানিয়েছেন, তাঁর না থাকার সুযোগ নিয়ে গণনা কেন্দ্রে পর্যন্ত জয়ী কংগ্রেস প্রার্থীদের জয়ের সার্টিফিকেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিলো সেই সময়। এরপর তদানীন্তন হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক মোস্তাক আলম, সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী, মাসুদ আলম সহ কংগ্রেস নেতৃত্ব এই ষড়যন্ত্রের জাল ফাঁস করতে আদালতের দ্বারস্থ হন। গত ২০১৯ সালের ৫ই এপ্রিল মহামান্য কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব ব্যানার্জীর নির্দেশে এই খুনের কিনারা করার জন্য SIT গঠন হয়। তদন্ত ভার গ্রহণ করে SIT। তদন্তে দেখা যায় মাসুদ আলম সহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিলো তা একেবারেই ভিত্তিহীন। ২০২০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী আদালত জানান যে, যেহেতু মাসুদ আলম সহ বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো এভিডেন্স তদন্তকারী সংস্থা খুঁজে পায়নি, সুতরাং এই মামলা থেকে তাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই রেহাই পান। কিন্তু প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষে মাসুদ আলমদের আইনী লড়াই চলতেই থাকে। অবশেষে SIT বৃহস্পতিবার চাঁচল কোর্টে এই মামলায় চার্জশিট গঠন করে পেশ করলে দেখা গেলো সেখানে নাম আছে মালদার দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা মহব্বত আলি এবং ওয়াসিম আকরামের নাম। IPC ‘র 364/302/201/120(B), 27 Arms Act,9(B)Indian Explosive Act ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মহব্বত আলিকে, যিনি শ্রীপুর ২ নম্বর অঞ্চল প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা এবং ওয়াসিম আকরামকে,যিনি রতুয়া ব্লক যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি।

কংগ্রেস নেতা মাসুদ আলম জানিয়েছেন বিচার ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের সম্পূর্ণ আস্থা আছে। যেভাবে মিথ্যা মামলায় কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের জড়িয়ে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক তৃণমূল জয়ী হয়েছিলো, তার জবাব রাজনৈতিক ভাবে মানুষই তাদের দেবেন বলেও মাসুদ আলম জানিয়েছেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.