হেঁশেলে আগুনঃ মোদি বন্ধুদের পৌষমাস

চন্দন ঘোষ চৌধুরী

ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থার গভীর অন্ধকারের অধ্যায় এই সময়ে। স্বাধীনতা র পর থেকে আর্থিক নীতির পরিবর্তন হয়েছে, সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন হয়েছে, সরকারী স্তরে ন্যায় ও উন্নয়ন বিস্তৃত হয়েছে দীর্ঘ জাতীয় কংগ্রেসের শাসনকালে।
প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিল কৃষি উন্নয়ন, দ্বিতীয় শিল্প। এরপরই শুরু হয় জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এর বিভিন্ন নীতি ও প্রকল্প।

পেট্রোপণ্য স্বাভাবিক ভাবে জড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে। পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস আজ অর্থনীতি র যেকোন প্রক্রিয়ার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল ও অস্বচ্ছ নীতির ফলে আজ পেট্রোপন্যর মূল্যবৃদ্ধি , তার সাথে সামগ্রীক ভাবে প্রতিটি প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামবৃদ্ধি জনজীবন কে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

১৯৯১ সালে ডঃ মনমোহন সিং যে উদার বা বিশ্ব অর্থনীতি র সূচনা করেন, সেখানে পরিস্কার ভাবে জনকল্যাণ অর্থনীতি বা Welfare Economy চালু করেন। অত্যাবশ্যক পণ্য ও জীবনদায়ী ওষুধের জন্য বিশেষ পর্যায় বা Bracket Pricing নীতি প্রণয়ন করেন।
১৯৯৫ সালে , ভাবনা শুরু করেন বিশেষ তেল ভান্ডার বা Oil reservoir।
১৯৮৯ সালে ইরাকের কুয়েত আক্রমণ ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বাজার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। ভারতেও তার প্রভাব পড়ে ব্যাপক।

২০০৩ সালে বাজপেয়ীজির সরকার সেই Oil Reservoir অনুমোদন করেন। শুরু হয় Strategic Petroleum Reservoir Limited এর যাত্রা। যার প্রধান কাজ হবে দেশে Oil reservoir তৈরি হবে ও সেখানে ১০০ দিন সর্ব নিম্ন ও সর্বোচ্চ ১৩০ দিনের Fuel মজুত থাকবে।
ভারতের Brent Crude oil বা অপরিশোধিত তেল 85% ও প্রাকৃতিক গ্যাস 55% নির্ভরশীল
আমদানির উপর।

বিশাখাপত্তনম 1.33 million Metric ton , ম্যাঙ্গালুরু 1.5 MMT ও পদুর 2.25MMT এ UPA সরকার চালু করেন।
২০১৮ এর বাজেটে প্রায় 11000 (6550 কোটি কোটি টাকা চান্দিখলের জন্য) কোটি বরাদ্দ হয় চতুর্থ ভান্ডারের জন্য উড়িষ্যার চান্দিখোল 4 MMT ক্ষমতার ও পদুরে আরও একটা মজুত ভান্ডার তৈরির জন্য। এখনো অসম্পূর্ণ ।
এই মুহুর্তে সরকারের হাতে ৯ দিন ও অনিয়ন্ত্রিত PSU র হাতে ৬৪ দিনের তেল মজুত আছে।
শ্রীলঙ্কার আর্থিক ও তেল সংকটের দিকে নজর দিলেই ভয়াবহতা অনুভূত হয়।
২০২১ এ ভারতের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানিতে ব্যায় 62.71 Bn ডলার।
মজার ব্যাপার , বিশ্ব অতিমারির সময়ে ২০২০ তে আমদানি ব্যয় 101.4 bn ডলার।
২০১০ সালে UPA সরকার পেট্রোলের ওর Decontrol করেন, বিশ্ব অর্থিনীতির পদক্ষেপ হিসাবে। কিন্তু একটি নির্ধারক বা Regulatory কমিটি তৈরি করেন যারা review করবেন প্রতি ৩ মাস অন্তর। সুতরাং ৩ মাসে দৈনিক মূল্য পরিবর্তন হবে না।

পণ্য পরিবহন স্বার্থে ডিজেলের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন।
২০১৪ সালে NDA সরকার ডিজেলের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেন ও Regulatory কমিটি উঠিয়ে দেন ১৫ ই জুন ২০১৭ থেকে সম্পূর্ণভাবে, যা ১৫ দিন অন্তর Revise price ঠিক করতো। মূল্য নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তেল কোম্পানির হাতে। শুরু হয় দৈনিক ফাটকা কারবার বা Speculative Market Control , যা আজ মানুষের জন্য চূড়ান্ত বোঝা।
ভারতের সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা হলো:
Indian Oil Corporation
Hindustan Petroleum
Bharat Petroleum
Shell
Reliance Petroleum
Essar Oil

এই মুহূর্তে ক্রুড অয়েল মূল্য ৭৪.৯৬ বারেল প্রতি।
ভারতে প্রায় ৮০% তেল আমদানি করতে হয়, যার মধ্যে OPEC বা Organization of Petroleum Exporting Countries থেকে আমদানি সব থেকে বেশি। ৮% USA ও ৭% রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল আসে।
শুধু ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধে কারণ হলে দেশে মজুত তেল ভান্ডার ৯৩ দিনের থাকা উচিত ছিলো।

জ্বালানি ও গ্যাস GST অন্তর্ভুক্ত নয়। এখানে Cost and freight prices, Excise duty, Applicable VAT, Dealer Commission মিলিত ভাবে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বন্টন হয়।
কেন্দ্র ৬৩% ও রাজ্য ৩৭% ট্যাক্স ও সেস বাবদ নেয়।
কেন্দ্র ট্যাক্স ৪১% বেড়েছে। ২৬ লক্ষ কোটি টাকা আয় করেছে।
এখন অবশ্যই Fuel Price control revision committee করতে হবে। Fuel tax কে GST অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কথা ভাবতে হবে। Fuel PSU র উপর সরকারী নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে। ট্যাক্স ও সেস কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়কেই কমাতে হবে। সর্বোপরি, SPRL এর পরিধি বাড়িয়ে আরো বেশী মজুত ভান্ডার করতে হবে।
সরকারী মজুত কমপক্ষে ৩০দিন রাখতে হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে শিল্পপতিদের বন্ধু অর্থনীতির সরকার সেটা করতে পারবেন কিনা!

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.