হু হু করে বাড়ছে জাল ৫০০ ও ২০০০ টাকার জাল নোট–নোটবন্দি ছিলো আসলে ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রি

—চন্দন ঘোষ চৌধুরীর বিশেষ প্রতিবেদনঃ

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ( Reserve Bank of India) অতি সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লিখিত হয়েছে , ২০২১-২২ অর্থ বর্ষে সব মূল্যের নকল টাকার পরিমাণ ১০০% এর উপর বৃদ্ধি পেয়েছে।

RBI – এর রিপোর্ট আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সব থেকে ভয়াবহভাবে নকল টাকায় বিপর্যস্ত ৫০০ টাকার নোট।

জাল ৫০০ টাকার নোট বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৯%। তারপর জাল ২০০০ টাকার নোটের বৃদ্ধি ৫৪.১৬% । ২০০০ টাকার মতো বৃহৎ মূল্যের নোটকে RBI বাধ্য হয়ে ছাপানো কমাতে শুরু করেছে। ২০০০ টাকার সর্ব মিলিত নোটের চালু নোটের পরিমাণ এখন ১.৬% ;অর্থমূল্য ২১৪ কোটি টাকা।২০২০ সালে এই ২০০০ টাকার নোটের পরিমাণ ছিল ২.৪০% বা ২৭৪ কোটি টাকা।

রিপোর্ট অনুসারে , ৫০০ টাকার নোটের ছাপানোর পরিমাণ বৃদ্ধি হচ্ছে। এই বছরে ৫০০ টাকার নোট বাজারে ব্যবহৃত মূল্য ৪৫৫৪.৬৮ কোটি টাকা, গত বছর যা ছিল ৩৭৬৭.৯০ কোটি টাকা।যার সম্মিলিতভাবে ভারতের মুদ্রার পরিমাণের ৩৪.৯০%।

বিপদের দিক হলো এই ৫০০ টাকার নোট যখন নকল হচ্ছে ১০০ শতাংশের বেশি, সেখানে স্মরণ করতে হবে ২০১৬ সালের ৮ই নভেম্বর, যেদিন ভারতের মুদ্রা অর্থনীতিতে সব থেকে ভ্রান্ত পদক্ষেপ নিলেন কেন্দ্রীয় সরকার। নোটবন্দি ঘোষিত হলো। বলা হলো- দুর্নীতি রোধ, কালো টাকা পুনরুদ্ধার, সন্ত্রাসবাদী অর্থ যোগান ও নকল নোট ব্যবহার রোধের জন্যই নাকি এই নোটবন্দি। ৮৬% বাজার চালু নোট নিষিদ্ধ হলো। ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

সেই ভয়াবহতা মানুষের জীবনে ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে আনলো। মুদ্রা যোগানের অভাবে বন্ধ হলো ছোট, মাঝারি ও বাজার ব্যবসায়ী, ব্যাংক ব্যবস্থা চরম সংকটে। মিন্ট থেকে নতুন মুদ্রা ছেপে আসা, ব্যাংক বন্টন, বাজার বন্টন সব মিলিয়ে ১০০ দিনেরও বেশি সময় আর্থিক বিপর্যয় দেশের মানুষের এক নিদারুণ অভিজ্ঞতা।

আরও বড় সংকট হলো ২০০০ টাকার নোট চালু করা, যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে সামান্য অর্থমুদ্রা নেই।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ না মেনে এই নোটবন্দি মানুষের জীবনে অভিশাপ ডেকে এনেছিলো। ড. অমর্ত্য সেন, ড. কৌশিক বসু, ড. রঘুরাম রাজন বারবার সতর্ক করেছিলেন এই নোটবন্দির বিরুদ্ধে।

মুদ্রাহীন লেনদেন সম্ভব নয় কারণ ৪৫% জিডিপি আসে বাজার নিয়োজিত মুদ্রা ব্যবস্থায়।

৮০% কর্মচারীর আয় হয় বাজার নিয়োজিত মুদ্রা ব্যবস্থায় বা Informal Currency Economy থেকে।

মাত্র ২৭% ব্যাঙ্ক পরিষেবা বাসস্থান থেকে ৫ কিলোমিটাররের মধ্যে। সুতরাং, শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক পরিষেবার লাভের ক্ষেত্রে দেশের ৭৩% মানুষের দুর্ভোগ আরও ত্বরান্বিত করলো।

শুধুমাত্র ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট পরিবর্তনের জন্য সরকারি খরচ হয়েছিলো ১২০০০ কোটি টাকা। যার আর্থিক পরিমাণ ২৩০০ কোটি টাকা।সারা দেশে পরিবহন ও বন্টনের জন্য খরচ হয়েছিলো প্রায় ২২০০০ কোটি টাকা।

খুব স্বাভাবিক ভাবে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হলো এই অব্যবস্থায় । ২০১৬-১৭ এ জিডিপি ১.১% কমে গেলো।

আজ যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এই নোটবন্দি করলেন, তার একটিও সুফল মানুষ পেলেন না। দুর্নীতির মাত্রা চূড়ান্ত, কালো টাকা ফেরে নি, বরং দেশের ব্যাংকগুলো থেকে টাকা নিয়ে , বিদেশে পালিয়েছেন অন্ততঃ পাঁচজন সরকার ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি, সন্ত্রাসবাদী অর্থ যোগান বেড়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ NPA ( Non Performing Assets) সহ প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা।

নকল নোট বা Currency Counterfeit সর্বকালের রেকর্ড।

সাধারণ মানুষ কি করবেন এখন ?

ছবি সৌজন্যঃ DNA Web Team

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.