সর্বনাশা কৃষি আইন

অমিতাভ সিংহ

সারা ভারত জুড়ে নতুন কৃষি আইন বিরোধী বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সারা দেশের নজর সিংঘু সীমান্তের দিকে। কিন্তু কেন এই প্রবল বিক্ষোভ আমাদের দৈনন্দিন অন্নদাতাদের?

কৃষি বিপ্লবের প্রথম ধাপঃ

ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক পরিবার যুক্ত কৃষিকার্যে। কৃষিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশে কৃষকের সংখ্যা ১৪.৬৪ কোটি। পরিবারপিছু ৫ জন ধরলে মোটামুটি ৭০ কোটি মানুষ কৃষিকাজে জড়িয়ে আছেন।তারাই সারা বছর অন্ন জোগান দেন দেশের ধনী দরিদ্র, হিন্দু মুসালমান,বাঙালী তামিল সবধরনের মানুষের মুখে।পরাধীন আমলে ব্রিটিশ শাসক কৃষকদের প্রতিনিয়ত শোষণ ও নিপীড়ন করে গেছে। সেসময় তারা কৃষকদের বাধ্য করেছে নীল ও আফিং চাষ করতে। ফলে প্রায়শই দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা যেত। স্বাধীনতার পর কংগ্রেস শাসনকালে সবুজ বিপ্লব, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ,ভুমি সংস্কার তার সাথে ফুড কর্পোরেশন গঠন ও রেশনিং এর মাধ্যমে খাদ্যশস্য গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাবস্থা করেছে।একইসাথে অধিক উৎপাদনশীল বীজের প্রয়োগ,রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষ আবাদ,ট্রাক্টর ব্যবহার, এক ফসলি জমিতে বছরে একাধিকবার চাষ আমাদের কৃষিক্ষেত্রে সাবলম্বী করে তুলেছে। ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের পর কৃষকদের ঋণদান,৭১ টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বিশ্বে ভারতকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। সবই হয়েছে কংগ্রেসের শাসনকালে।
১৯৬৫ সালে ভারতের কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী সি সুব্রম্মনম চালু করেন কৃষি মূল্য কমিটি যার ফলে নূন্যতম সহায়ক মূল্য বা এম এস পি নির্ণয় করা হয়। ষাটের দশকে তৈরি কৃষিপণ্য বিপনন কমিটি বা এপিএমসি বা মান্ডি কৃষকের কাছ থেকে তাদের উৎপাদিত শস্য এমএসপির দামে কেনে। এই ব্যাবস্থা চাষীদের কাছে জীবনরেখা বা আশার আলো। গত নির্বাচনে কংগ্রেস এই ব্যাবস্থাকে আরো নিশ্ছিদ্র করতে কৃষকস্বার্থে সময়োপযোগী একটি আইন আনার কথা বলেছিল। একই সাথে খরা বা বন্যা বা অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ফসলের উৎপাদন কম হলে মজুতদারী ও কালোবাজারি রুখতে অত্যাবশকীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করা যেত।

জনস্বার্থে তৈরি ব্যাবস্থা ভাঙার চক্রান্তঃ

বিজেপি সরকার গত সেপ্টেম্বর মাসে অতিমারীর আবহে সংক্ষিপ্ত বর্ষাকালীন অধিবেশনে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলের প্রবল বিরোধীতার মধ্যে গায়ের জোরে রাজ্যসভায় ভোট করতে না দিয়ে তিনটি কৃষি বিল পাস করায় বিরোধীদের প্রস্তাবমতো সেগুলি সিলেক্ট কমিটিতে না পাঠিয়ে।

কৃষকবিরোধী তিন আইনঃ
বিজেপি সরকারের এই নতুন আইনে কর্পোরেট হাউসের নিয়ন্ত্রনে থাকা খোলা বাজারে কৃষকদের উৎপাদিত শস্য চুক্তি চাষের মাধ্যমে বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। সেখানে শস্য বিক্রি করে প্রাথমিকভাবে মান্ডির চেয়ে বেশি দাম পেতে পারেন, কিন্তু অচিরেই খোলা বাজারের সাথে প্রতিযোগীতায় পেরে না উঠে মান্ডিগুলি বন্ধ হয়ে গেলে কর্পোরেট হাউসগুলি অনেক কম দামে চাষীদের ফসল বিক্রি করতে বাধ্য করবে এবং তখন চাষীরা চরম অসুবিধায় পড়বেন। কারণ তখন কোন বিকল্প বাজারের অস্তিত্বই থাকবে না।ক্ষুদ্র চাষীদের ( প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ) পক্ষে সম্ভব নয় দূরবর্তী বাজারে গিয়ে সরাসরি তা বিক্রি করা। যাতায়াত খরচ,শস্য রাখার জায়গা, নিজেদের থাকার খরচ ইত্যাদি তারা বহন করতে পারবেন না।
এই আইনে নূন্যতম সহায়ক মুল্যের কথাও উল্লেখ নেই। মান্ডির গুরুত্ব কমিয়ে খোলা বাজারকে একটা সময় পর্যন্ত কিছুটা লাভজনক করে তুলে তারপর তাদের চরম শোষণের রাস্তা তৈরি করার চক্রান্ত ও তাদের যে ফাঁদে ফেলতে যে সরকার আদানী অম্বানীদের মত বৃহৎ কর্পোরেটদের সাথে হাত মিলিয়ে করতে চাইছে তা চাষীরা বুঝতে পেরে গেছেন।নতুন আইনে চাক,গম,আলু,পেঁয়াজ,ভোজ্যতেল,নুন,চিনি প্রভৃতি নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যকে আর অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসাবে গন্য করা হবে না। নতুন আইনের ফলে ককর্পোরেট হাউস কোন উর্দ্ধসীমা ছাড়াই প্রচুর পরিমানে মজুত করতে পারবে। এমনকি পচনশীল পন্যের ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্যের ১০০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির আইনি অধিকারও ভোগ করবে। এর ফলে বাজারে যোগান কমিয়ে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে পন্যের দাম বাড়িয়ে সাধারন মানুষকে দুর্দশায় ফেলবে তারা। এই আইনের ফলে স্থানীয় প্রশাসন বা রাজ্য সরকার এই অসাধু ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতেও পারবেন না।চাষীদের কাছ থেকে ফসল না কেনার ফলে সরকারি গুদামগুলো ফাঁকা পড়ে থাকবে,রেশনিং ব্যাবস্থা ভেঙে পড়বে। কংগ্রেস সরকারের তৈরি খাদ্য নিরাপত্তার সুযোগ দেশের মানুষ পাবেন না। বন্যা,খরা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে ( যেমন লকডাউন ও মহামারীর সময় হয়েছিল) সরকার দরিদ্র ও সাধারন মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী বাজার থেকে সংগ্রহ করে সরবরাহ করত তা কঠিন হয়ে পড়বে। কেননা চুক্তিচাষের আইন অনুযায়ী চাষীরা তার উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারবেন শুধুমাত্র কর্পোরেটদের। তারা আগে ফসল পরে দাম এই নীতিতে চলবেন। ফলে দুর্যোগের ফলে উৎপাদন মার খেলে কর্পোরেট সংস্থা কোন ক্ষতিপূরন দিতে বাধ্য থাকবে না। আর চাষীরা আইনী লড়াইতে ঐসব হাঙরদের সাথে পেরে উঠবে না।তাছাড়া সেই অধিকারও নতুন আইনে দেওয়া হয় নি। এছাড়া কৃষকেরা তাদের পছন্দমত ফসল ফলানোর অধিকার হারাবেন। তাদের অবস্থা পরাধীন ভারতের নীলচাষীদের মত হবে।নিজের জমিতে নিজেই শ্রমিক। যে দেশে ৮৬% চাষীর জমি দুই হেক্টরের নীচে সেইসব ক্ষুদ্র চাষীরা আত্মহনন করতে বাধ্য হবেন ফসলের দাম না পেয়ে। বর্তমানে শক্তিশালী কৃষক সংগঠনগুলি বিভিন্ন ব্যাপারে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বা পরামর্শ দিয়ে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে সাহায্য করে। কিন্তু কর্পোরেট ব্যবস্থা চালু হলে এই সংগঠনগুলি দুর্বল হয়ে পড়বে ও তখন ক্ষুদ্র চাষীরা অথৈ জলে পড়বেন।এছাড়া মান্ডি ব্যবস্থা বিলোপ হয়ে গেলে রাজ্যগুলিও একটা বড় অংশ রাজস্ব হারাবে।এইভাবে রাজ্যগুলিকে দুর্বল করে কেন্দ্রীয় সরকারের দাসে পরিনত করাটাও যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার বিরোধী।

★কংগ্রেসের আন্দোলন ও বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভঃ

জাতীয় কংগ্রেসের সাথে অন্য বিরোধীদলগুলিও আজ এই নতুন কৃষিনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। এমনকি মোদীসরকারের শরিক দলগুলিও এই আইনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। পান্জাব,রাজস্থান,হরিয়ানা,,মমহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকেরা আজ রাস্তায়। বিদেশের বিভিন্ন শহরে যেমন নিউ ইয়র্ক, টরেন্টো, কলম্বিয়া, মিশিগান,ভ্যাঙ্কুবারসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতের কৃষকদের সমর্থনে বিক্ষোভ চলছে।তাদের হাতে পোষ্টার – “এই আইন তুলে নাও” বা ” নতুন আইন কৃষকের মৃত্যুর পরোয়ানা” অথবা ” MODI– murder of democracy in India”।কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্তিন টুডো কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। রাষ্ট্রপুন্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুয়তরেস শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগ না করে কৃষকের সমস্যা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে সমাধান করার কথা বলেছেন। আমেরিকা ও বৃটেনের আইনপ্রনেতারাও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগের নিন্দা করেছেন।দেশের বিভিন্ন ক্রীড়াবিদ সরকারের দেওয়া অর্জুন, খেলরত্ন ইত্যাদি পুরস্কার ফেরৎ দিয়েছেন। সম্প্রতি গ্রামি বিজয়ী পপ গায়িকা রিহানা,সুইডেনের পরিবেশ আন্দোলনের নেত্রী গ্রেটা থুনবার্গ সহ বিশ্বের বহু বিশিষ্ট মানুষেরা এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার এখন এসবের মোকাবিলা করতে পাল্টা টুইট করতে ব্যস্ত।

এদিকে কোলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের উদ্যোগে সভাপতি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কলেজ স্কোয়ার থেকে রাজভবন পর্যন্ত বিশাল মিছিল সংগঠিত হয়। শ্রী চৌধুরী এই তিনটি আইন অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবী জানান ও কৃষকদের সাথে আলোচনা করে এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। ইতিপূর্বে বিভিন্ন জেলায় এই আইন প্রত্যাহারের দাবীতে একাধিক মিছিল,বিক্ষোভ ও অবস্থান তার নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছে।

★দিল্লীতে কৃষকদের দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভঃ

২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লীর সীমানায় সিংঘু,গাজিপুর ও টিকরু সীমান্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রথমে তাদের পথে কংক্রীটের পাঁচিল তৈরি করে বা রাস্তা খুঁড়ে ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে তাদের আটকাবার চেষ্টা করে হরিয়ানা ও কেন্দ্রীয় সরকার।শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডায় তাদের ওপর জলকামান থেকে তীব্র গতিতে জল ছেটাতে বাধে নি এই নির্মম সরকারের। এতকিছু সত্বেও কৃষকদের আটকানো যায় নি।সিংঘু সীমান্তে খোলা আকাশের নীচে তাদের অবস্থান আড়াই মাস হয়ে গেছে।সরকার বার বার আলেচনার নাম করে সময় অপব্যয় করেছে যাতে প্রচন্ড শীতের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে একের পর এক কৃষকের মৃত্যুর ফলে কৃষকেরা ক্লান্ত হয়ে বিক্ষোভ তুলে নেয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশী কৃষকের মৃত্যু তাদের জেদ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ পর্যন্ত মোদী বা অন্য কোন মন্ত্রী একবারও এই প্রসংগে দুঃখ প্রকাশ করেন নি।সরকার যতই এটা আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলুক না কেন আমাদের এই সরকারের আমলে আদালত ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারনা আছে। আদালতের কমিটি গঠনেই তা প্রমানিত। তারপর সরকার শেষ চালটি চেলেছিল এক বা দেড় বছর আইনটি স্থগিত রাখার কথা বলে।এর মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন হবে,তারপর নতুন করে আইন লাগু করার ছক। কিন্তু প্রায় ৫০০ টি ছোট বড় কৃষক সংগঠনকে নিয়ে তৈরি সারা ভারত কৃষক সংগ্রাম কমিটি তা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন।তারা গত প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাক্টর মিছিল করেন। ঐ মিছিলে লোক ঢুকিয়ে লালকেল্লায় বিশৃঙ্খলা ঘটানোর চেষ্টায় সরকার ও পুলিশের ভূমিকা আজ দিনের আলোর মত স্পষ্ট।

★আন্দোলন ঘিরে বিজেপির মিথ্যা প্রচারঃ

এই সরকার কৃষক আন্দোলনকে প্রথমে কোন গুরুত্বই দেয় নি। ভেবেছিল শাহিনবাগের মতো গায়ের জোরে বা আদালতের সাহায্যে একে ভেঙে দেওয়া যাবে। তাই কখনও আন্দোলনকারীদের মাওবাদী বা খালিস্থানী, কখনও পাকিস্থান বা চিন বা বিদেশী শক্তির যোগ বা কখনও টুকরা টুকরা গ্যাং বলে দাগিয়ে দিতে চেষ্টা করে গেছে। পেছনে রয়েছে বিজেপির অদ্বিতীয় আই টি সেল যারা মূহুর্তের মধ্যে মিথ্যা খবরকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে ওস্তাদ।সরকার একাধিকবার বিভিন্নভাবে সংগঠনগুলির মধ্যে বিভেদসৃষ্টির চেষ্টা করেছে। যেমন শতদ্রু যমুনা খালের বিতর্কিত প্রসংগ তুলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মধ্যে সম্পর্কের ফাটল সৃষ্টি করতে চেষ্টা করা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন ” মোদী সরকারের কাছে আন্দোলনকারী ছাত্ররা রাজদ্রোহী, উদ্বিগ্ন নাগরিকরা শহুরে নকশাল,পরিযায়ী শ্রমিকেরা কোভিদ বহনকারী, ধর্ষিতা নির্যাতিতারা চরিত্রহীন,চাষীরা খালিস্থানী আর তার প্রিয় বন্ধু হল মুনাফাখোর শিল্পপতিরা।”

★শেষ খবরঃ

প্রজাতন্ত্র দিবসের ঘটনার পর বিজেপি চেষ্টা করেছে জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় পতাকা অবমাননার মিথ্যা প্রচার করে আন্দোলনকারী কৃষকদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টে দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক যারা কিনা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক তাদের নামে এফআইআর করেছে দিল্লী,উত্তরপ্রদেশ ও মমধ্যপ্রদেশ পুলিস। সিদ্ধার্থ বরদাজন,রাজদীপ সারদেশাই, মৃণাল পান্ডে,জাফর আগা,পরেশনাথ, বিনোদ জোসসহ এই তালিকায় আছেন শশী থারুরও।পরেরদিন থেকেই তিন সীমান্তে জল, বিদ্যুৎ,ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ। ভ্রাম্যমাণ টয়লেট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাস্তা কেটে,রাস্তায় কংক্রীটের ঢালাই দিয়ে খাদ্য – পানীয় সবকিছু সরবরাহ বন্ধ করে সরকার লক্ষ লক্ষ চাষীকে হত্যা করার চক্রান্ত করছে।তার ওপর স্থানীয় মানুষের ভেক ধরে বিজেপি ও আরএসএস গুন্ডাদের নিয়মিত শাসানি ও আক্রমন।এইসব দুষ্কৃতিদের অমিত শাহের সাথে দেখা গেছে তার ছবিও বাজারে এসেছে। সেই খবর ফেসবুক লাইভে প্রচার করতে গিয়ে ক্যরাভান পত্রিকার সাংবাদিক মঞ্জিত পুনিয়া ও ধর্মেন্দ্র সিংকে আটক করে পুলিশ।ধর্মেন্দ্র সিংকে ছেড়ে দিলেও মঞ্জিত পুনিয়াকে গ্রেপ্তার করে।সে নাকি ৫০/৬০ জন পুলিসকে তাদের কাজে বাধা দিচ্ছিল। আদালত অবশ্য মঞ্জিতকে জামিন দিয়েছে।তারা বলেছে কোন নাগরিক তার কর্তব্যপালন করলে আদালতের কাজ জামিন দেওয়া জেল দেওয়া নয়। রাহুল গান্ধী এই প্রসংগে বলেছেন “সত্যকে চেপে রাখা যায় না”।
গতকাল দেশজুড়ে কৃষকদের ডাকে চাক্কা জ্যাম সফল হওয়ার পর এবার শয়তানের প্রতিভূরা কি পরিকল্পনার করে দেখা যাক।তবে যাই করুক না কেন দেশের নাগরিকসমাজ যে তা যেকোন মূল্যে রুখবে তা নিশ্চিত।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.